Blog
বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভিসা করতে কত টাকা লাগে ২০২৬
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যাতায়াত প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কেউ যাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে, কেউ পড়াশোনা বা ব্যবসার কাজে, আবার অনেকেই যাচ্ছেন স্রেফ ঘুরে বেড়াতে। ২০২৬ সালে এসে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও পুরোদমে চালু হয়েছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা। তাই এই সময়ে যারা ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের মনে প্রথমেই প্রশ্ন জাগে—বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভিসা করতে কত টাকা লাগে ২০২৬ সালে?
ভিসা আবেদনের সঠিক বাজেট এবং নিয়ম জানা থাকলে যেকোনো ঝামেলা ছাড়াই খুব সহজে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া সম্ভব। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী ভারতীয় ভিসার খরচ এবং আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ভারতীয় ভিসার আসল খরচ কত?
অনেকেই মনে করেন ভারতের ভিসা করতে বোধহয় অনেক টাকা সরকারি ফি দিতে হয়। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হলো, ভারত সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশী পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য মূল ভিসা ফি সম্পূর্ণ ফ্রি বা বিনামূল্যে। অর্থাৎ, আপনি যে ক্যাটাগরির ভিসার জন্যই আবেদন করুন না কেন, মূল Indian visa fee বাবদ কোনো টাকা নেওয়া হয় না।
তাহলে ভিসা করতে যে টাকা খরচ হয়, সেটি কিসের টাকা? মূলত, ভারত হাই কমিশন সরাসরি আবেদনপত্র গ্রহণ করে না। তারা পুরো আবেদন প্রক্রিয়া এবং পাসপোর্ট জমা নেওয়ার কাজটি একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করে। এই সংস্থার নাম হলো Indian Visa Application Centre বা সংক্ষেপে IVAC। এই IVAC সেন্টারে আপনার আবেদনপত্র প্রসেসিং, অনলাইন স্লট ম্যানেজমেন্ট এবং বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রসেসিং ফি দিতে হয়। একেই মূলত সাধারণ মানুষ ভারতীয় ভিসার খরচ বা ফি বলে থাকেন।
২০২৬ সালে আইভ্যাক (IVAC) সার্ভিস ফি কত?
বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে ভারতের ভিসা আবেদনের জন্য নির্ধারিত প্রসেসিং ফি কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। সমস্ত তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে যে, বর্তমানে প্রতিটি সাধারণ ভিসা আবেদনের জন্য সার্ভিস চার্জ বা IVAC service fee হলো ১,৫০০ টাকা।
আপনি ট্যুরিস্ট ভিসা, মেডিকেল ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা বা বিজনেস ভিসা—যেকোনো ক্যাটাগরিতেই আবেদন করুন না কেন, এই ১,৫০০ টাকা প্রসেসিং ফি বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে। এই টাকাটি অফলাইন বা সরাসরি ক্যাশ কাউন্টারে অথবা অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করার সময় পরিশোধ করতে হয়। মনে রাখবেন, এই ফিটি সম্পূর্ণ অফেরতযোগ্য বা non-refundable। আপনার ভিসা কোনো কারণে রিজেক্ট বা প্রত্যাখ্যান হলেও এই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।
আরও পড়ুনঃ ভারতের ভিসা আবেদন করার নিয়ম ২০২৬ অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি
ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভারতীয় ভিসার খরচ
যদিও মূল প্রসেসিং ফি ১,৫০০ টাকা, কিন্তু আপনি যদি জরুরি ভিত্তিতে বা বিশেষ কোনো সুবিধা নিয়ে ভিসা করতে চান, তবে খরচের পরিমাণ কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। নিচে ২০২৬ সালের বিভিন্ন ক্যাটাগরির খরচ তুলে ধরা হলো:
১. standard tourist visa খরচ
সাধারণ ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য প্রসেসিং ফি ১,৫০০ টাকা। এই ভিসার মাধ্যমে আপনি সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি বা মাল্টিপল এন্ট্রির সুবিধা পাবেন। এই ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৪ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ভিসা প্রসেস হয়ে যায়।
২. express tourist visa এবং জরুরি মেডিকেল ভিসা
যদি আপনার জরুরি কোনো প্রয়োজনে ভারতে যাওয়ার দরকার হয়, তবে আপনি এক্সপ্রেস বা Tatkal সেবার সাহায্য নিতে পারেন। মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রসেসিং করার জন্য মূল ১,৫০০ টাকা ফির সাথে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম বা এমার্জেন্সি চার্জ যুক্ত হতে পারে। এটি সাধারণত কাউন্টারে সরাসরি যাচাই করে পরিশোধ করতে হয়। এই সেবার মাধ্যমে ১ থেকে ২ কর্মদিবসের মধ্যে ভিসা পাওয়া সম্ভব।
৩. বয়স্ক নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, যেসব বাংলাদেশী নাগরিকের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি, তারা ৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী মাল্টিপল এন্ট্রি ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে পারেন। তাদের ক্ষেত্রেও মূল IVAC service fee ১,৫০০ টাকাই প্রযোজ্য হবে।
অটোমেটেড টাইম স্লটের নতুন নিয়ম ২০২৬
২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন আর আবেদনকারীদের ম্যানুয়ালি বা নিজে নিজে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় বা টাইম স্লট সিলেক্ট করতে হয় না। আপনি যখন অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে সাবমিট করবেন, তখন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট সময় এবং তারিখ নির্ধারণ করে দেবে। একে বলা হচ্ছে automated time slots ব্যবস্থা। এর ফলে দালালের খপ্পরে পড়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেট কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময়ে আইভ্যাক সেন্টারে উপস্থিত হয়ে ১,৫০০ টাকা ফি দিয়ে সহজেই আবেদন জমা দেওয়া যায়।
ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ভিসা প্রসেসিং ফি দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক কাগজপত্র জমা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কাগজপত্রে ভুল থাকলে আপনার টাকা এবং সময় দুটোই নষ্ট হতে পারে। ভারতের ভিসার জন্য প্রধান প্রধান যে কাগজগুলো লাগবে তা নিচে দেওয়া হলো:
- মূল পাসপোর্ট: পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বনিম্ন ৬ মাস থাকতে হবে এবং কমপক্ষে দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
- ছবি: সম্প্রতি তোলা ২×২ ইঞ্চি সাইজের সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ল্যাব প্রিন্ট ছবি লাগবে।
- আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ: শেষ ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট যেখানে নূন্যতম ২৫,০০০ টাকা ব্যালেন্স থাকতে হবে অথবা ১৫০ ডলারের endorsement বা ডলার এন্ডোর্সমেন্ট করা থাকতে হবে।
- ঠিকানার প্রমাণ: বর্তমান ঠিকানার বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা পানির বিলের কপি।
- পেশাগত প্রমাণ: চাকুরিজীবীদের জন্য NOC, ব্যবসায়ীদের জন্য Trade License এর কপি এবং ছাত্রদের জন্য Student ID কার্ডের কপি।
- জাতীয় পরিচয়পত্র: এনআইডি (NID) কার্ড অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
অতিরিক্ত বা আনুমানিক মোট খরচ কত হতে পারে?
আপনি যদি নিজে নিজে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি করেন, তবে আপনার মোট খরচ হবে আইভ্যাক ফি ১,৫০০ টাকা এবং ছবি তোলা ও ফটোকপি করার জন্য আরও ১০০ থেকে ২০০ টাকা। অর্থাৎ, ১,৭০০ টাকার মধ্যেই আপনি ভারতের ভিসা পেয়ে যাবেন।
তবে আপনি যদি কোনো ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বা কোনো দালালের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করাতে যান, তবে তারা অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা সার্ভিস চার্জ বা ফর্ম ফিলাপ ফি হিসেবে দাবি করতে পারে। গুগল এবং আইভ্যাক-এর পক্ষ থেকে সবসময় নিজে নিজে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ বর্তমান ডিজিটাল সিস্টেমে এটি অত্যন্ত সহজ এবং নিরাপদ।
তাই বলা যায়, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভিসা করার আসল সরকারি বা অনুমোদিত খরচ মাত্র ১,৫০০ টাকা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রকার বাড়তি টাকা বা দালালি ছাড়াই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ভারতীয় ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন।